
নিজেস্ব প্রতিনিধি মাহিয়া আক্তার:নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে । এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে র্যাব, সিপিএসসি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উপজেলার কোতালিচর হোসেন বাজার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার নরসিংদী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১১ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— কোতোয়ালীর চর গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. এবাদুল্লাহ (৪০), বিলপাড় এলাকার আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০), হোসেন বাজার এলাকার নাজিরের ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), অপর একজনের নাম জানা যায়নি।গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে নূরা কৌশলে তরুণীকে মাধবদী থানাধীন মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর এলাকায় চৈতি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে এবাদুল্লাহ, হযরত আলী, গাফফারসহ কয়েকজন মিলে তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।পরদিন তরুণীর মা বিষয়টি পুলিশকে জানানোর উদ্যোগ নিলে বিএনপি নেতা আহাম্মদ আলী মেম্বার তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, ইছাহাক ওরফে ইছা গ্রাম সরকার আবু তাহের ও মো. আইয়ুবসহ পুলিশে অভিযোগ না করার জন্য চাপ দেন।এ ঘটনায় আহাম্মদ আলী মেম্বার মূল আসামিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিচার না করে বাদীর পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন।বুধবার রাতে বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়ি যাওয়ার পথে বড়ইতলা এলাকায় নূরার নেতৃত্বে আরো পাঁচজন মিলে তরুণীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ সরিষাক্ষেতে ফেলে রাখে।পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর দড়িকান্দি এলাকায় সরিষাক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল, ঠোঁট ও মুখ রক্তাক্ত। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
